2026 সালে ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে কি কি লাগে বিস্তারিত জানুন
ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে কি কি লাগে এবং কত টাকা লাগে, কিভাবে আবেদন করবেন, কিভাবে স্মার্ট কার্ড ডাউনলোড করবেন এই সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন। শুধু তাই নয় এখানে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করা হবে।
আমরা সবাই জানি ড্রাইভিং লাইসেন্স মূলত দুই ধরনের হয়ে থাকে পেশাদার এবং অপেশাদার। এই দুই ধরনের ড্রাইভিং লাইসেন্স এর জন্য আলাদা আলাদা কাগজের প্রয়োজন হয় এবং লাইসেন্স করার জন্য কিছু শর্ত থাকে। চলুন প্রথমে কি কি যোগ্যতা থাকলে ড্রাইভিং লাইসেন্স করা যাবে তা জেনে নিই।

ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদন করার যোগ্যতা
পেশাদার এবং অপেশাদার এর ভিত্তিতে আবেদনের কিছু যোগ্যতা থাকা আবশ্যক। ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে কি কি লাগে তা জানার আগে আবেদনের যোগ্যতা জানা থাকলে পুরো বিষয়টি বুঝতে সহজ হবে।
- ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য প্রাথমিক শর্ত হলো লার্নার বা শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স।
- আবেদনকারীর ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা ৮ম শ্রেণী পাস হতে হবে।
- অপেশাদার লার্নার এর জন্য ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর হতে হবে।
- পেশাদার লার্নার লাইসেন্সের জন্য ন্যূনতম বয়স ২১ বছর হতে হবে।
- মানসিক ও শারীরিকভাবে সুস্থ থাকা আবশ্যক।
- পেশাদার হালকা ড্রাইভিং লাইসেন্স এর জন্য সর্বনিম্ন ২০ বছর হতে হবে।
- পেশাদার মাঝারি/ মধ্যম লাইসেন্স এর জন্য সর্বনিম্ন ২৩ বছর এবং
- পেশাদার ভারি লাইসেন্স এর জন্য সর্বনিম্ন ২৬ বছর হতে হবে।
এই যোগ্যতা গুলো আপনার থাকলে আপনি ড্রাইভিং লাইসেন্স এর জন্য আবেদন করতে পারবেন। প্রাথমিক অবস্থায় আপনাকে লার্নার হিসাবে আবেদন করতে হবে। চলুন লার্নার কি জেনে নিই সবার আগে।
লার্ন এর ইংরেজি হল Learn মানে শিক্ষা বা প্রশিক্ষণ। আর learner মানে হল যে ব্যক্তি শিক্ষা নেয় বা প্রশিক্ষণ নেয় সে। তো আপনাকে ড্রাইভিং লাইসেন্স করা আগে অবসশই প্রশিক্ষণ নিতে হবে, তাই প্রাথমিক অবস্থায় আপনি একজন লার্নার। তারপর আপনার ভাইভা, লিখিত এবং প্রেক্টিকাল শেষ হলে পেশাদার কিংবা অপেশাদার লাইসেন্স নিতে পারবেন।

ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে কি কি লাগে ২০২৬
ড্রাইভিং লাইসেন্স বা প্রাথমিক অবস্থায় লার্নার হিসাবে আবেদনের জন্য বেশ কিছু কাগজপত্রের দরকার হয়। যেমনঃ
- নির্ধারিত আবেদন ফরম।
- আবেদনকারীর ছবি (৩০০ x ৩০০ পিক্সেল)
- রেজিস্টার্ড ডাক্তারের মেডিকেল সার্টিফিকেট
- জাতীয় পরিচয়পত্রের স্ক্যান কপি
- ইউটিলিটি বিলের স্ক্যান কপি যেমন পানি/গ্যাস অথবা বিদ্যুৎ বিলের কপি
- বিদ্যমান লার্নার এর স্ক্যান কপি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)
- নির্ধারিত ফি
- শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ
এখানে মেডিক্যাল সারটিফিকেট ডাউনলোড এর আবেদন ফরম এবং অনলাইনে ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদনের ফর্ম সংযুক্ত করা হল। এখান থেকে ক্লিক করে ডাউনলোড করে নিতে পারবেন সহজেই।
এখন আপনার কাছে আবেদন ফরম আছে এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে কি কি লাগে তা আপনার জানা আছে। এখন আপনাকে ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার কিছু ধাপ রয়েছে তা সম্পর্কে জানাব। তার আগে আপনি যদি ড্রাইভিং লাইসেন্স চেক করতে চান তবে এখান থেকে করে নিতে পারেন।
ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার নতুন ৫টি ধাপ
ধাপ-১ অনলাইনে আবেদন দাখিল
এই ধাপে আপনাকে নির্ধারিত আবেদন ফর্ম এ আবেদন করতে হবে। আবেদন ফরম ওপরের বাটন থেকে ডাউনলোড করে নিতে পারবেন। আবেদন করার সময় যেসকল কাগজপত্র লাগবে তা হলঃ
- জাতীয় পরিচয়পত্র কপি [ NID download ]
- ছবি
- শিক্ষা সনদ
- মেডিক্যাল সার্টিফিকেট
- লার্নার অনলাইন আবেদন কপি
- নির্ধারিত ফি ইত্যাদি।
ধাপ-২ পরিক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিতি
অনলাইনে আবেদনের পর অবশ্যই নির্ধারিত কেন্দ্রে সঠিক সময় উপস্থিত হতে হবে। কেননা এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই ধাপেই সকল ধরনের পরিক্ষা নিরিক্ষা গুলো হয়ে থাকে যেমনঃ
- ফিঙ্গারপ্রিন্ট এর মাধ্যমে যাচাই এবং বায়োমেট্রিক গ্রহন
- লিখিত পরিক্ষা
- মৌখিক পরিক্ষা এবং
- ব্যাবহারিক পরিক্ষা ।
ধাপ-৩ অনালাইনে নির্ধারিত ফি এবং কাগজপত্র দাখিল
এই ধাপে প্রার্থীকে তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হয়। আপনি ইতিমধ্যে জেনে গেছেন যে ড্রাইভিং লাইসেন্স কারতে কি কি লাগে। এখন জেনে নিন ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে কত টাকা লাগে
ধাপ-৪ আবেদন গ্রহন এবং অনলাইন কপি ডাউনলোড
একটি নির্দিষ্ট সময় পর আপনার আবেদন গৃহীত হবে। আবেদন যাচাই বাচাই করার পর তারা আপনার আবেদন খতিয়ে দেখবে এবং অনুমোদন করবে।
তারপর মোবাইল এ একটি ম্যাসেজ আসবে তা দিয়ে আবেদন কপি প্রিন্ট এবং ডাউনলোড করে নিতে পারবেন। আবেদন কপি ডাউনলোড এর জন্য এখানে প্রবেশ করুন Driving Licence Download
ধাপ-৫ স্মার্ট কার্ড প্রাপ্তি
আপনার আবেদনের সাত কর্ম দিবসের মধ্যে আপনার দেওয়া ঠিকানায় কুরিয়ার কিংবা ডাকযোগে ওরিজিনাল ড্রাইভিং লাইসেন্স স্মার্ট কার্ড প্রেরন করা হবে। আপনার কার্ডটি সঠিক সময়ে আসবে কিনা এবং কতদিন সময় লাগবে তা স্মার্ট কার্ড স্ট্যাটাস অপশন থেকে দেখে নিন।
গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
আসা করি আপনারা ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে কি কি লাগে এবং আবেদনের ধাপ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পেরেছেন। আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর জেনে নিন।
ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে কি কি লাগে ২০২৬ ?
ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে নির্ধারিত আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে এবং আবেদনকারীর ৩০০ x ৩০০ পিক্সেলের ছবি, রেজিস্টার্ড ডাক্তারের মেডিকেল সার্টিফিকেট, জাতীয় পরিচয়পত্রের স্ক্যান কপি, এবং ইউটিলিটি বিলের কপি (যেমন: পানি, গ্যাস, বা বিদ্যুৎ বিল) জমা দিতে হবে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিদ্যমান লার্নার লাইসেন্সের স্ক্যান কপি এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদও প্রয়োজন। এছাড়া সর্বশেষে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হবে।
ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে কি কি যোগ্যতা লাগে ২০২৬?
ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য প্রাথমিক শর্ত হলো লার্নার বা শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স। আবেদনকারীর ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা ৮ম শ্রেণী পাস এবং মানসিক ও শারীরিকভাবে সুস্থ থাকা আবশ্যক। অপেশাদার লাইসেন্সের জন্য ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর এবং পেশাদার লাইসেন্সের জন্য ২১ বছর হতে হবে। পেশাদার হালকা ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য ন্যূনতম বয়স ২০ বছর, মাঝারি লাইসেন্সের জন্য ২৩ বছর, এবং ভারি লাইসেন্সের জন্য ২৬ বছর হতে হবে।